VTVUS

NEWS24/7


মোহাম্মদ শামীম, বিশেষ প্রতিনিধি
ভিটিভি ইউএস

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি জরুরি বিদেশি সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর শুক্রবার জানান, ঢাকা বর্তমানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইটিএফসি) এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) মতো বড় দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি খাতে সহায়তার জন্য বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। এটি আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভর করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে সরকার তেল রেশনিং করতে বাধ্য হয়েছে। তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল।

উপদেষ্টা জানান, বর্তমান কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করছে সরকার। এছাড়া এডিবির বাজেট সহায়তা বাবদ ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি আরও ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছে। তারা একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছিল। আমরা তাদের অনুরোধ জানাব যেন জুলাইয়ের পরিবর্তে এই অর্থ বর্তমান অর্থবছরের মধ্যেই ছাড় করা হয়।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে জ্বালানি খাতের অর্থপ্রবাহ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কেবল একটি উৎসের ওপর নির্ভর না করে আমদানির উৎসগুলোতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ এখন মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং নাইজেরিয়া থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পথ খুঁজছে।

বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি পেলেও আপাতত সাধারণ গ্রাহকের ওপর এর বোঝা চাপাতে চায় না সরকার। উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছি না। প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে যাতে অর্থনীতি সংকুচিত না হয়।’ তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বেসরকারি খাতের ঋণের চেয়ে বহুপাক্ষিক দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

Tagged:

Comments are closed