প্রতিবেদন, মোহাম্মদ শামীম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কিছু দীর্ঘমেয়াদি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজার’ প্রয়োগ করেছে কাতার এনার্জি। এতে অন্তর্ভুক্ত গ্রাহক দেশগুলো হলো—ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীন।
‘ফোর্স মেজার’ এমন একটি বিধান, যা কোনো পক্ষকে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়।
এই পদক্ষেপটি কাতারের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর হামলা চালায়, তখন থেকেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর লক্ষ্য করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়েছে।
উপসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ায় উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই জলপথের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ আসে।
প্রণালীটি বন্ধ থাকায় জ্বালানির মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত সপ্তাহে কাতার এনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, ইরানি হামলায় কাতারের রাস লাফফান গ্যাস সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশের এলএনজি রপ্তানির প্রায় ১৭% সক্ষমতা হারিয়েছে। এতে বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের ক্ষতি হয়েছে এবং ইউরোপ ও এশিয়ার সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, কাতারের ১৪টি এলএনজি ট্রেনের মধ্যে দুটি এবং দুইটি গ্যাস-টু-লিকুইড সুবিধার মধ্যে একটি ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।




Comments are closed